Tuesday, 26 June 2012

সাইনবোর্ড-শরণখোলা মহাসড়কের ২৫টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণে চলছে সীমাহীন দুর্নীতি

॥ বাবুল দাস ॥
শরণখোলাঃ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে আর দায়সারাভাবে সম্পন্ন করা হচেছ বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৫টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ। ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার যেনতেনভাবে সম্পন্ন করছে জনগুরুত্বপূর্ণ এ কালভার্ট ও ব্রিজগুলি। এমনকি রাতের আঁধারে দায়িত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ছাড়াই ব্রিজগুলির গুরুত্বপূর্ণ ঢালাই কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। কোন কোন কালভার্ট সিডিউল বহির্ভূত ইচেছ মাফিক মাপে নির্মাণ করা হয়েছে। কাজগুলি মূল ঠিকাদারের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ক্রয় করায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সাব-কন্ট্রাক্টর ইচ্ছেমতো কাজ করছে । এদিকে, এসব কাজের
সাথে সরকার দলীয় রাগব-বোয়াল রাজনীতিবিদরা জড়িত থাকায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা বলে জানা গেছে । 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জকে ইকো ট্যুরিজমের আওতায় আনার জন্য বাগেরহাটের সাইনবোর্ড থেকে শরণখোলা উপজেলার বগী (সুন্দরবন সংলগ্ন) পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তাকে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার জন্য গত বছর একনেকের এক সভায় ৯০কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এ অর্থ দিয়ে প্রথম দফায় সড়কের দু’পাশ বর্ধিত করার জন্য মাটির কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সাইনবোর্ড থেকে শরণখোলা (বগী) পর্যন্ত ২৫ টি কালভার্ট নির্মানের জন্য ২৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ করা হয়। ঠিকাদারী সংস্থা রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স, মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও আমীন এ্যান্ড কোং এ নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান। কিন্তু ঠিকাদারগুলো নির্মান কাজে সীমাহীন দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব কাজে নিম্নমানের পাথর খোয়া, রড ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। রডের কাজে ৬০ গ্রেডের পরিবর্তে ৪০ গ্রেড এবং সিডিউল অনুযায়ী রড বাইন্ডিং এ ডাউন মিলি রড ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি সিমেন্ট ও রডের পরিমাণও দেয়া হচ্ছে কম। অভিযোগ উঠেছে, শরণখোলার ব্র্যাক অফিসের কাছাকাছি ব্রিজটি (জলিল ব্রিজ নামে পরিচিত) আমিন এ্যান্ড কোং সিডিউল অনুযায়ী না করে রাস্তার লেভেল থেকে দু’ফুট ডাউন করে নির্মাণ করেছে। এ কাজের সাব-কন্ট্রাক্টর মোঃ হারুন জানান, এ সড়কের সিংবাড়ি, জলিল ব্রিজ ও পাঁচ রাস্তার কাছাকাছি (কদমতলা) কালভার্টসহ ৫টি কালভার্ট তিনি ৫৫ লাখ টাকায় কিনেছেন। তা পুষিয়ে নিতে একটু এদিক ওদিক করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও ওয়ার্ক এ্যাসিট্যান্টরা সাইটে আসেন না বললেই চলে। এজন্য ঠিকাদার কর্র্তৃপক্ষ ইচ্ছামাফিক এ কাজগুলি করে যাচ্ছেন। 
গত ১৫ জুন রাত ১০ টায় শরণখোলা উপজেলার লাকুড়তলা ও তাফালবাড়ি সড়কের মধ্যবর্তী একটি কালভার্টের বেজ ঢালাইয়ের কাজ রাতের অন্ধকারে করা শুরু হয়। এ কাজটির ঠিকাদার রুপসা ইঞ্জিনিয়ার। খবর পেয়ে শরণখোলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান সওজ’র কোন লোক ছাড়াই রাতের আঁধারে ওই ব্রিজের বেজ ঢালাই এর কাজ চলছে। স্থানীয় লোকজন ওই কাজ বন্ধ করে দেন। রাজৈর ব্রাক অফিস সংলগ্ন (জলিলের ব্রীজ) কালভার্টর নির্মাণ কাজ অধিকাংশ করা হয়েছে রাতের আঁধারে। মোড়েলগঞ্জ- শরণখোলা সড়কের পাহলানবাড়ীর কালভার্টের উইং ওয়াল করা হয়েছে নির্দিষ্ট মাপের চেয়ে কম। অনেক কালভার্টের কাজ শেষ হতে না হতেই ওয়ালে ফাটল ধরেছে। ধনাসাগর ইউনিয়নের সিংবাড়ি এলাকর ব্রিজটির কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মাথায় ৬/৭টি স্থানে ফাটল ধরেছে। ফাটল স্থানগুলিতে তড়িঘড়ি সিমেন্ট ও বালু মিশ্রিত প্লাষ্টার দিয়ে কোন মতে জোড়াতালি দেয়া হযেছে। রায়েন্দা পাচঁ রাস্তার কাছাকাছ কালভার্টের পুরানো বেজ ঢালায়ের রড না সরিয়েই পুরাতন রডের উপড় ঢালাই দিয়ে তা সম্পন্ন করা হয়েছে। শরণখোলার বকুলতলা ওয়ার্ড মেম্বর দেলোয়ার হোসেন খলিল জানান, মরা পাথর খোয়াসহ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে। 
শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকন বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মানে মহা-দূর্নীতি হচেছ। রাঘব- বোয়ালরা রাজনীতিবিদরা এ কাজ শুরুর আগেই সুযোগ সুবিধা গ্রহন করেছে। এ ব্যাপারে রুপসা ইনজিনির্য়াসের ঠিকাদার হাজী মোহাম্মদ আলীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ম্যানেজার কায়সার হোসেন জানান, ঠিকাদার বিদেশে আছেন। আমিন এ্যান্ড কোং এর কাজগুলির সাব-কন্ট্রাক্টর মোঃ হারুনের সাথে কথা হলে তিনি ঠিকাদারের মোবাইল ফোন নম্বর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসও মুকুল জ্যাতি বোস জানান, পাথরের খোয়াগুলো নিম্নমানের- একথা সত্য। তা ব্যাবহার না করার জন্য ঠিকাদারদের বলা হয়েছে। তাছাড়া কাজগুলিতে একটু এদিক ওদিক হয়েছে। রাতে কালভার্টের ঢালাইয়ের কাজ করার কথা নয়। অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনোয়ার উজ-জামান জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments:

Post a Comment

thanks...............ur comment